×
  • প্রকাশিত : ২০২৬-০১-০৬
  • ২১ বার পঠিত

হাড়কাঁপানো শীত আর ঘন কুয়াশায় জবুথবু রাজধানী। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় শীতের দাপট অনেকটা প্রকট। টানা দুই সপ্তাহ ধরে কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশ আর সূর্যের দেখা না মেলায় শীতল অনুভূতি আরও তীব্র হয়েছে। তবে এই বিরূপ প্রকৃতিও হার মেনেছে শহরের কর্মমুখী হাজারো মানুষের জীবনযুদ্ধের কাছে। কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করেই জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন রাজপথে নামছেন শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ।

তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর ও শ্রমজীবীরা। ভোরের আলো ফোটার আগেই কাজের সন্ধানে তাদের অবস্থান নিতে হচ্ছে অলিগলি ও সড়কের মোড়ে। সকাল হতেই রিকশাচালক ও অফিসগামী মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠছে নগরী। সবার কাছেই শীতের এই শারীরিক কষ্ট জীবিকার লড়াইয়ের তুলনায় গৌণ।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। বাতাসে আর্দ্রতার উচ্চমাত্রা এবং দিনের বেলায় সূর্যের অনুপস্থিতি শীতের অনুভূতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উত্তর-পশ্চিম দিকের হিমেল বাতাস।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর উত্তরার হাউজ বিল্ডিং, আজমপুর ও জসিমউদ্দীনসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শীত উপেক্ষা করেই রাস্তায় ভিড় করছেন মানুষ। দিনমজুরেরা জবুথবু হয়ে ফুটপাতে কাজের অপেক্ষা করছেন। রিকশা ও অটোরিকশা চালকেরা ভারী পোশাকে নিজেদের মুড়িয়ে পথে নেমেছেন। ভ্রাম্যমাণ হকারদেরও দেখা গেছে পণ্য সাজিয়ে বসতে।

কাজের অপেক্ষায় থাকা দিনমজুর আব্দুল মজিদ আকন্দ বলেন, শীতের মধ্যে তো দাঁড়িয়ে থাকাটা কষ্টের। কিন্তু ভোরে না দাঁড়ালে আর সারাদিন কাজ পাওয়া যায় না। সেজন্য কষ্ট হলেও ভোর থেকে এখানে নিজেকে বিক্রির জন্য অপেক্ষা করতে হয়।’
আরেক শ্রমিক রুবেল মিয়া জানান, কাজে নেমে গেলে ঠান্ডা লাগে না, কিন্তু যতক্ষণ কাজের জন্য অপেক্ষা করতে হয়, ততক্ষণই কষ্ট।

পরিবহনকর্মী নাঈম হোসেনের কণ্ঠেও ফুটে উঠল একই আর্তি। ভিআইপি ২৭ বাসের এই হেল্পার বলেন, ‘শীতে শরীর অবশ লাগে, হাত জমে যায় টাকা ধরতে। তবু টাকার জন্য কাজ করতে হয়।’আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, সহসাই এমন পরিস্থিতির পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

সারাদেশের সম্ভাব্য পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

এদিকে আজ (মঙ্গলবার) সকাল ৬টায় রাজশাহীতে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ১০০ শতাংশ থাকায় অনুভূত তাপমাত্রা আরও কম।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat