- প্রকাশিত : ২০২৬-০২-১০
- ১ বার পঠিত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশজুড়ে থেমে গেছে প্রার্থীদের সব ধরনের নির্বাচনী প্রচার। ভোটের আগে নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার পর থেকে পোস্টার, মাইক, সভা- সবই বন্ধ। ২২ জানুয়ারি শুরু হওয়া টানা ২০ দিনের প্রচারপর্বের এখানেই ইতি টানল নির্বাচন কমিশন।
এখন নজর সরাসরি ভোটের দিকে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একযোগে দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে গণভোটও। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট দেবেন দেশের কোটি কোটি ভোটার।
তবে সব আসনে ভোট হচ্ছে না। শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও জেলা সেক্রেটারি নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে ওই আসনের নির্বাচন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। তিনি গত ২ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে মারা যান।
আইন অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শুরুর আগের ৪৮ ঘণ্টা সময়কে ধরা হয় ‘নীরবতা কাল’। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এবং ইসির আচরণবিধি অনুযায়ী এই সময়ে কোনো প্রার্থী বা দলের পক্ষে প্রচার চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকেই রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সব ধরনের প্রচারণা বন্ধ রাখার নির্দেশনা কার্যকর রয়েছে।
এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৫১টি রাজনৈতিক দল। মোট প্রার্থী ২ হাজার ৩৪ জন, যার মধ্যে ২৭৫ জন স্বতন্ত্র। দেশজুড়ে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে ৪২ হাজার ৭৭৯টি।
ভোটার সংখ্যার দিক থেকেও এবারের নির্বাচন বড় পরিসরের। মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন।
দলভিত্তিক প্রার্থী সংখ্যায় এগিয়ে বিএনপি। ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে দলটির ২৯১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ‘হাতপাখা’ প্রতীকে দিয়েছে ২৫৮ জন প্রার্থী। জামায়াতে ইসলামী ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ২২৯ জন, জাতীয় পার্টি ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে ১৯৮ জন প্রার্থী নিয়ে মাঠে রয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৩২ জন প্রার্থী লড়ছেন ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৭৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে।
প্রচার শেষ, প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন- এখন অপেক্ষা শুধু ভোটের দিনের। সিদ্ধান্তের ভার এবার যাবে ভোটারদের হাতেই।
নিউজটি শেয়ার করুন
এ জাতীয় আরো খবর..