×
  • প্রকাশিত : ২০২৬-০৩-১৫
  • ৭৯ বার পঠিত

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রথম দুই সপ্তাহে যখন ইরানজুড়ে সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলার বৃষ্টি নামছিল, তখন একটি বিশেষ স্থান দৃশ্যত অক্ষত ছিল। অত্যন্ত ক্ষুদ্র আয়তন হওয়া সত্ত্বেও খার্গ দ্বীপ ইরানের অর্থনৈতিক জীবনরেখা হিসেবে পরিচিত। দেশের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০% এই দ্বীপ দিয়েই সম্পন্ন হয়। যার অর্থ হলো— এখানে যেকোনো ধরনের হামলা বড় ধরনের সংঘাত বাড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।

তবে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র দ্বীপটির সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তা এবং ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, তেল বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত সাইটগুলোতে কোনো আঘাত হানা হয়নি। কিন্তু ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যে, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া অব্যাহত রাখে, তবে তিনি ওই তেল স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালাবেন।

কেন এই দ্বীপটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

খার্গ দ্বীপ হলো একটি প্রবাল দ্বীপ, যা আয়তনে নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটন শহরের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। এটি পারস্য উপসাগরে ইরানের উপকূল থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার (১৫ মাইল) দূরে অবস্থিত।প্রায় প্রতিদিন ইরানের প্রধান তেলক্ষেত্রগুলো (আহভাজ, মারুন ও গাচসারান) থেকে লাখ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে এই দ্বীপে আসে। কঠোর সামরিক নিয়ন্ত্রণের কারণে ইরানিদের কাছে এটি ‘নিষিদ্ধ দ্বীপ’ নামে পরিচিত।

পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ক্ষুদ্র খার্গ দ্বীপ ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। গভীর সমুদ্রের সুবিধা থাকায় বিশাল সুপারট্যাঙ্কারগুলো এখান থেকেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ করে। সামরিক দিক থেকে এটি অত্যন্ত সুরক্ষিত হওয়ায় একে ‘নিষিদ্ধ দ্বীপ’ বলা হয়। এই স্থাপনাটি ধ্বংস হওয়ার অর্থ হলো ইরানের অর্থনীতির মূল মেরুদণ্ড ভেঙে পড়া

এর দীর্ঘ জেটিগুলো সমুদ্রের এমন গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত যেখানে বিশালকার অয়েল সুপারট্যাঙ্কারগুলো অনায়াসেই ভিড়তে পারে, যা এই দ্বীপটিকে তেল বিতরণের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিণত করেছে। ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশই এখান থেকে সম্পন্ন হয়।দীর্ঘদিন ধরে এই দ্বীপটি ইরানের অর্থনীতির মূল চাবিকাঠি। ১৯৮৪ সালের একটি সিআইএ (CIA) নথিতে বলা হয়েছিল, এই স্থাপনাগুলো ‘ইরানের তেল ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এগুলোর সচল থাকা ইরানের অর্থনৈতিক সচ্ছলতার জন্য অপরিহার্য।’ সম্প্রতি ইসরায়েলি বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ বলেছেন যে, এই টার্মিনালটি ধ্বংস করলে ‘ইরানের অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে যাবে এবং সরকারের পতন ঘটবে।’

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরান বিশ্ববাজারের প্রায় ৪.৫ শতাংশ তেল সরবরাহ করে। তারা প্রতিদিন ৩৩ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং আরও ১৩ লাখ ব্যারেল কনডেনসেট ও অন্যান্য তরল জ্বালানি উত্তোলন করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat